রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কলাপাড়ায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের হুইল চেয়ার বিতরন স্বাধীনতা দিবসে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঈদের চতুর্থ দিনে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল সৈকতে মোটরসাইকেলের অবাধ বিচরন, ঝুঁকিতে শিশু ও পর্যটক সম্পাদক পদে সবার পছন্দ এ্যাড আবুল কালাম আজাদ ইমন কলাপাড়ায় আগাম ঈদ উদযাপন করছে  ৮ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ কলাপাড়ায় অদম্য-৯৭ ব্যাচের ইফতার অনুষ্ঠিত কুয়াকাটায় মানববন্ধনের জেরে শ্রমিক দল নেতাকে হত্যাচেষ্টা, পটুয়াখালীর কালাইয়াতে বিপুল পরিমাণ মাদক ও বার্মার সুল্কফাকি দেওয়া চোরাই সুপারি জব্দ ঢাকা দোহা থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার পলাতক আসামী রিয়াজুল র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার মেহেন্দিগঞ্জে ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অর্থ বিতরন বিতরণ পটুয়াখালীর গলাচিপায় চাঁদার দাবিতে খেয়াঘাটে হামলা-ভাঙচুর, অর্থ লুটপাট আসন্ন পবিত্র ঈদঁউল ফিতর উপলক্ষে নিত্য প্রয়োনিয় পন্যর দাম স্থিতিশীল ও পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ রাখতে র‌্যাব ৮ এর অভিযান বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৫ম প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনকে ছাত্রদলের ফুলেল শুভেচ্ছা ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে বরিশাল বেসরকারি সার্ভেয়ার এসোসিয়েশন
কলাপাড়া পৌরসভার রাজস্ব লুটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা

কলাপাড়া পৌরসভার রাজস্ব লুটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা

Sharing is caring!

কলাপাড়া (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি:

নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভার রাজস্ব আদায় কার্যক্রম। প্রায় কোটি টাকা পানির বিল, অর্ধকোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন, স্বাস্থ্য প্রশাসন সহ প্রভাবশালী ব্যক্তি, সরকারী, বেসরকারী অফিসের কাছে।

পৌরসভার হাট-বাজার, বাসষ্ট্যান্ডের রাজস্ব আদায় কার্যক্রম নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন। পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তার দাবী ৫ আগষ্টের পর থেকে প্রায় দেড় মাস পশুর হাট ও বাস ষ্ট্যান্ড থেকে রাজস্ব পায়নি পৌরসভা।

সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্বৃত্তদের কবল থেকে মুক্ত করা যায়নি রাজস্ব আদায় কার্যক্রম।
পৌরসভার অফিস সূত্রে জানা গেছে, পানি শাখার সেপ্টেম্বর’২৪ পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে ৭৭ লক্ষ ৬৪ হাজার ১৩৭ টাকা।

হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া ৩১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শুধু মাত্র স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাছে হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া ১২ লাখ, উপজেলা প্রশাসনের কাছে ৪ লাখ ৬০ হাজার, ভূমি প্রশাসনের কাছে ২০ হাজার, আনসার ব্যাটালিয়ান অফিসের কাছে হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে ১৫ হাজার টাকা।
সূত্রটি আরও জানায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে আ’লীগ নেতা মো. দিদারুল আলম বাবুল পৌরসভার বাস ষ্ট্যান্ড ইজারা নেয় নীট ১৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকায়। এরপর থেকে মেয়র, কাউন্সিলরদের স্বার্থে খাস কালেকশন করা হয় এ রাজস্ব আয়ের খাত থেকে।

২০২৩-২৪ অর্থ বছরে এ খাত থেকে ১৬ লক্ষ ৫২ হাজার ১০০ টাকা পায় পৌরসভায়। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে এসে স্থবির হয়ে পড়ে এ খাতের রাজস্ব আয়। বর্তমানে এ খাত থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা পৌরসভা পেলেও বাকী টাকা যাচ্ছে দুর্বৃত্তদের হাতে।

এছাড়া বাংলা ১৪২৯ সালে নীট ২২ লক্ষ ৪২ হাজার ৫০০ টাকায় পশুর হাট ইজারা নেয় মো. জুয়েল। ১৪৩০ সাল থেকে মেয়র, কাউন্সিলরদের স্বার্থে এ উৎস্যটি থেকে খাস কালেকশন করা হয় ১৩ লক্ষ ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা।

১৪৩১  সালে খাস কালেকশন থেকে ৭ই কার্তিক পর্যন্ত পৌরসভা ফান্ডে জমা পড়ে মাত্র ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা। বাকী টাকা অন্য কারও পকেটে।
কলাপাড়া পৌরসভা সূত্রে আরও জানা যায়, পৌরসভার বাৎসরিক রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ কোটি টাকা। আর এ রাজস্ব আয়ের উৎস্য হচ্ছে পানি বিল, হোল্ডিং ট্যাক্স, হাট-বাজার ইজারা, বাসষ্ট্যান্ড ইজারা, বিভিন্ন লাইসেন্স-নিবন্ধন ফি, ভূমি হস্তান্তর ফি, ডাম ট্রাক ভাড়া, ভবনের নকশা অনুমোদন ফি, পাবলিক টয়লেট ইজারা, পৌরসভা মার্কেটের কক্ষ ভাড়া থেকে। এসব উৎস্য থেকে কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় না হলে বেতন সঙ্কটে ৭৯ জনবলের টিম নিয়ে নাগরিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাব্যলাল চক্রবর্ত্তী বলেন, ’৫ আগষ্টের পর থেকে প্রায় দেড় মাস পশুর হাট ও বাস ষ্ট্যান্ড থেকে রাজস্ব পায়নি পৌরসভা। সামরিক বাহিনীর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্বৃত্তদের কবল থেকে পুরোপুরি মুক্ত করা যায়নি।’
পৌরসভার প্রশাসক ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ’নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে পৌরসভা। বকেয়া আদায়ে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

প্রসংগত, ৩.৭৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত কলাপাড়া পৌরসভার নাগরিক সেবা কার্যক্রমের শুরু ১ মার্চ ১৯৯৭। বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। ২০০৯ সালে এটি তৃতীয় শ্রেনী থেকে দ্বিতীয় শ্রেনীতে এবং ২০১৫ সালে এ পৌরসভাটি প্রথম শ্রেনির মর্যাদা লাভ করে। বর্তমানে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে ৩৯ জন এবং মাষ্টার রোলে থাকা জনবল রয়েছে ৪০ জন।

পৌরসভা থেকে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিমাসে বেতন দিতে হয় সাড়ে ১৭ লক্ষ টাকা। বিপুল অংকের এ টাকার যোগান আসে রাজস্ব আয় থেকে।

মোয়াজ্জেম হোসেন কলাপাড়া
২৮-১০-২৪

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © crimeseen24.com-2024
Design By MrHostBD